ডেল্টা ভেরিয়েন্ট এবং আমাদের করনীয়
- Jul 29, 2021
- 2 min read
Updated: Aug 10, 2021
করোনা ভাইরাসের প্রায় ১ বছরের বেশি সময় অতিক্রম হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ এখন আর এই ভাইরাসকে ভয় পায় না। তাই লকডাউনেও মার্কেটগুলোতে মানুষের ভীড়। অনেকে আবার মাস্ক পরাও দরকার মনে করছে না। টিকা দিয়ে আর লাভ কি? এমনি এমনি সব চলে যাবে।
যারা এই টাইপ চিন্তাভাবনা করছেন তারা একটু নড়ে চড়ে বসুন। এখন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করার সময়।

ভেরিয়েন্ট মানে কি?
ভেরিয়েন্ট (Variant) মানে হলো ভার্সন বা প্রজন্ম। একটা ভাইরাস যখন আমাদের দেহে প্রবেশ করে তখন এটি সর্ব প্রথম আমাদের কোষের (Cell) ভেতর ঢুকে। এই কোষের সাহায্যে এটি তার মতো আরো হাজার হাজার লাখ লাখ কোটি কোটি ভাইরাস উৎপাদন করতে থাকে৷ নতুন উৎপাদিত এই ভাইরাসগুলো কিন্তু সবসময় একরকম হয় না। পরিবেশগত বা অন্যকোনো কারণে এগুলো আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়ে যায় (Copying Error)। পরিবর্তিত এই ভাইরাসগুলোকে বলা হয় মূল ভাইরাসের ভেরিয়েন্ট।
একটা ভাইরাসের হাজার হাজার লাখ লাখ ভেরিয়েন্ট থাকতে পারে। সব ভেরিয়েন্ট অবশ্য সমান শক্তিশালী হয় না। অধিকাংশ ভেরিয়েন্টই আগের চেয়ে দূর্বল হয়। কিন্তু হাতে গোনা কিছু ভেরিয়েন্ট থাকে যেগুলো মূল ভাইরাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে পরে। এগুলোই মূলত চিন্তিত হবার কারণ।
ডেল্টা ভেরিয়েন্ট কি?
ডেল্টা (Delta) হলো করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভেরিয়েন্ট। গবেষকেরা এখন পর্যন্ত করোনার ৪টি ভেরিয়েন্টকে সবচেয়ে মারাত্নক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এগুলো হলো:
1. আলফা ভেরিয়েন্ট (Alpha Variant)
2. বিটা ভেরিয়েন্ট (Beta Variant)
3. গামা ভেরিয়েন্ট (Gamma Variant)
4. ডেল্টা ভেরিয়েন্ট (Delta Variant)
আলফা (Alpha) ভেরিয়েন্ট প্রথম ধরা পরে ২০২০ সালের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডে। এরপর এটা সারা ইউরোপ ছড়িয়ে পরে। ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে দক্ষিন আফ্রিকায় ধরা পরে বিটা (Beta) ভেরিয়েন্ট। এরপর গামা (Gamma) ভেরিয়েন্ট প্রথম ধরা পরে ব্রাজিলে। এবং সবশেষে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভারতে পাওয়া যায় সবচেয়ে ভয়াবহ ডেল্টা (Delta) ভেরিয়েন্ট। এটিই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভেরিয়েন্ট।
ডেল্টা ভেরিয়েন্ট এত শক্তিশালী কেনো?
ডেল্টা ভেরিয়েন্ট এ আক্রান্তের হার অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট করোনার অন্যান্য ভেরিয়েন্টগুলো থেকে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছড়ায়। যতটুকু সময়ে আলফা ভেরিয়েন্ট ২ জন মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে ঠিক ততটুকু সময়ে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ৪ জন কে আক্রান্ত করে ফেলে। তাই এটিকে বলা হয় সবচেয়ে শক্তিশালী ভেরিয়েন্ট। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০ টিরও অধিক দেশে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পরেছে৷
এই ডেল্টা ভেরিয়েন্ট এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো এটা অন্য ভেরিয়েন্টদের মত শুধু বয়স্কদেরই আক্রমণ করছে না। অনেক তরুণ বয়সীরাও কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।
আমাদের করনীয় কি?
এই মূহুর্তে যে কাজটি করা সবচেয়ে জরুরি তা হলো যতদ্রুত সম্ভব দুই ডোজ টিকা নিয়ে ফেলা। তবে এটা সত্যি যে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট এর উপর টিকার প্রভাব কম। কোনো টিকাই আপনাকে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তবে গবেষকদের মতে বর্তমান যেকোনো টিকা আপনাকে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট থেকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ নিরাপত্তা দিতে পারে। টিকা নেয়ার পর যদি আপনি কোনো ভাবে আক্রান্ত হয়েও যান তবে হসপিটালাইজড হওয়ার বা মৃত্যুর ঝুকি অনেক কমে যায়। সময়মত দুই ডোজ টিকা আপনাকে গুরুতর অসুস্থতা থেকেও রক্ষা করতে সক্ষম।
যদি কোনো কারণে টিকা নেয়া সম্ভব না হয় তবে আগের নিয়ম অনুয়ায়ী দুরত্ব বজায় রেখে চলা, মাস্ক পরিধান করা, সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, সেনিটাইজার ব্যাবহার করা ইত্যাদি মেনে চলা উচিত৷
তবে লক্ষ রাখতে হবে, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট আগের ভেরিয়েন্টগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ছোয়াঁচে এবং মারাত্মক। নিয়ম অনুযায়ী চলার পরও আপনি আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। তাই আপনি যে বয়সেরই হোন না কেনো, সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো যতদ্রুত সম্ভব দুই ডোজ টিকা বা ভেকসিন নিয়ে ফেলা।
Cheak my facebook: Shazid Al Mahmud





Comments