top of page
Search

The Fermi Paradox: Where are the aliens?

  • Sep 16, 2022
  • 3 min read

একটি টাইপ থ্রি সভ্যতা (কাল্পনিক)


মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই মহাবিশ্বে মানুষই একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী না। মানুষ ছাড়াও আরো উন্নত প্রাণের অস্তিত্ব থাকার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

আমাদের পৃথিবীর বয়স প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর। যেখানে মহাবিশ্বের বয়স (বিগ ব্যাং থেকে) ধারণা করা হয় তেরো বিলিয়ন বছর। অর্থাৎ বয়সের দিক থেকেও পৃথিবী এই মহাবিশ্বের তুলনায় বেশ ছোট। যেহেতু সাড়ে চার বিলিয়ন বছরেই পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব দেখা দিয়েছে সেহেতু পৃথিবীর আগে থেকেই যে গ্রহগুলো ছিল সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা উচিত।

নাসার মতে, গত দুই দশকের গবেষণায় চার হাজারেরও বেশি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এছাড়াও মহাবিশ্বে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে যার মধ্যে অনেক নক্ষত্রই সূর্যের মত। এই নক্ষত্রের অনেকেরই পৃথিবীর মত গ্রহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সকল গ্রহতে উন্নত প্রাণের বিকাশ ঘটা সম্ভব।

মাত্র দুই শত বছরের মাথায় আমরা প্রযুক্তির দিক দিয়ে যে উন্নতি সাধন করেছি, ভিনগ্রহবাসীরা যদি আমাদের থেকে পূর্বের সভ্যতা হয়ে থাকে তবে তাদের আরো উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন হওয়া উচিত। এতদিনে তাদের পৃথিবীতে এসে আক্রমণ করার কথা। কিন্তু তারা কোথায়? আমরা কেন এখনো তাদের খুঁজে পাচ্ছি না?

এইযে, এলিয়েন থাকার এত বড় সম্ভাবনা রয়েছে অথচ আমরা কোনো এলিয়েন খুঁজেই পাচ্ছিনা, এটাই হলো “ফারমি প্যারাডক্স”।


আমেরিকার এক পদার্থ বিজ্ঞানী, এনরিকো ফারমি, একদিন লাঞ্চের টেবিলে বসে তার এক কলিগকে বলছিলেন, ‘Where is everyone?’ এত বড় মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র একটি অংশে আমরা বাস করি। আরো অনেক উন্নত সভ্যতাই থাকার কথা। কিন্তু তারা কোথায়?

এনরিকো ফারমির এই উক্তি থেকেই ফারমি প্যারাডক্সের নামকরণ করা হয়।

(প্যারাডক্স হলো, এমন দুটি উক্তি যা পরস্পর বিরোধী। যা একে অপরের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে।)


ফারমি প্যারাডক্সকে আরো সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক আর্থার সি, ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘দুইটা সম্ভাবনা রয়েছে: হয় আমরা মহাবিশ্বে একদমই একা অথবা আমরা একা না, আরো প্রাণের অস্তিত্ব আছে। দুটোই ভয়ানক ব্যাপার।’

এখন এই প্যারাডক্সের সমাধান কি? দুটো উক্তিই তো সত্যি হতে পারে না। হয় এলিয়েন আছে নয়তো নেই।

বিজ্ঞানীরা এই প্যারাডক্সের কিছু সমাধান বের করা চেষ্টা করেছেন।


মহাবিশ্বে তিন ধরণের এলিয়েন সভ্যতা কল্পনা করা হয়। এলিয়েন সভ্যতা টাইপ ওয়ান, টাইপ টু এবং টাইপ থ্রি।

টাইপ ওয়ান এমন সভ্যতাকে বলা হয়, যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সবেমাত্র শুরু করেছে। তাদের গ্রহে তারাই সবচেয়ে শক্তিশালী। তারা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। এই বিবেচনায় আমরা এখনো টাইপ ওয়ান সভ্যতা।

টাইপ টু হলো এমন সভ্যতা, যারা প্রযুক্তির সাহায্যে নিজ গ্রহের পাশাপাশি তাদের সৌরজগতেও সভ্যতার বিস্তার করেছে। তারা সম্ভবত তাদের নক্ষত্রকেও (সূর্য) প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছে।


টাইপ থ্রি এমন এলিয়েন সভ্যতাকে বলা হয়, যারা সৌরজগতের পাশাপাশি পুরো ছায়াপথকেই নিজেদের কব্জায় এনে ফেলেছে। অন্যান্য এলিয়েন সভ্যতাকে নিজেদের কলোনিতে রুপান্তর করেছে। তারা এখন অন্যান্য ছায়াপথে সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা ভাবছে।

বোঝাই যাচ্ছে, কোনো টাইপ থ্রি’র এলিয়েন সভ্যতা অন্তত আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে নেই। থাকলে এতদিনে আমাদের জানার কথা ছিল।

তাহলে বাকি এলিয়েনরা কোথায় গেল?


অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের ধারণা, এলিয়েন আছে। কিন্ত তারা অনেক দূরে অবস্থান করছে। প্রযুক্তির উন্নতি হলে, আরো উন্নত যানবাহন ও টেলিস্কোপের সাহায্যে তাদের খুঁজে বের করা সম্ভব। সম্প্রতি নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আরো কিছু উন্নত নভোযান মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। এভাবে প্রযুক্তির উন্নতি হলে সেই এলিয়েনদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে না।


কিছু বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, এলিয়েন আছে এবং তারা চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগও করতে পারে। কিন্তু তারা ইচ্ছা করেই নিজেদের লুকিয়ে রেখেছে। তারা মানব সভ্যতাকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। সম্ভবত তারা ইতোমধ্যে পৃথিবী ভ্রমণও করেছে। আমরা তাদের ডিটেক্ট করতে পারিনি। স্টিফেন হকিং একবার বলেছিলেন, এলিয়ন যদি থেকেও থাকে, তবুও আমাদের উচিত হবে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখা।


সবশেষে আসে “দ্য গ্রেট ফিল্টার টেস্ট”। সম্ভভত আমাদের পূর্বেও অনেক টাইপ টু ও টাইপ থ্রি সভ্যতা ছিল। কিন্তু তারা গ্রেট ফিল্টার টেস্টে টিকতে পারেনি বিধায় ধ্বংশ হয়ে গিয়েছে।

গ্রেট ফিল্টার টেস্ট হলো এমন সব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যা একটি সভ্যতার অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন করে দিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন, সৌর ঝড়ের প্রভাব, গ্রহানুর সাথে সংঘর্ষ; আবার মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হতে পারে- পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি। এই সকল দুর্যোগের প্রভাবে অধিকাংশ এলিয়েন সভ্যতা হয়ত টাইপ থ্রি’তে যাওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমরা এখনো কোনো এলিয়েন খুঁজে পাইনি।


দ্যা গ্রেট ফিল্টার টেস্ট আমাদের জন্যও একটি বিপদ সংকেত হতে পারে। দেখা যাক, আমরা এই টেস্ট পার হতে পারি কিনা। যদি পারি, তাহলে হয়তো আমরাই হয়ে যাবো এই ছায়াপথের একমাত্র টাইপ থ্রি সভ্যতা।

 
 
 

Comments


14372307_1760888004185917_2115663295210837766_o.jpg

Hi there!

এই লিখাটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগ করতে আমার সাথে ফেসবুকে যুক্ত হতে পারেন।

আমার ফেসবুক পেইজঃ Shazid Al Mahmud 

 

 

Let the posts
come to you.

Thanks for submitting!

  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • Pinterest

All rights reserved 

bottom of page