World's Most Radioactive Place
- Jan 19, 2022
- 2 min read
আজ ভ্যারিটাসিয়াম (Veritasium) এর একটা ভিডিও দেখছিলাম। সাইন্স রিলেটেড বেশ ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টরগুলো এক্সপ্লেইন করা হয় এই চ্যানেলে। আমার খুব পছন্দের একটা চ্যানেল। যাইহোক, আজকের ভিডিওতে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে রেডিও একটিভ জায়গারগুলোর খোজ করছিলেন।
প্রথমে আমাদের পরিবেশে যে খুব সামান্য পরিমাণ রেডিয়েশন থাকে সেটা দেখালেন। এরপর, আমরা যে কলা (ফল) খাই সেই কলা থেকেও সামান্য পরিমাণ রেডিয়েশন আমাদের শরীরে আসে। আমাদের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকসের ডিভাইসগুলোতেও কিছু রেডিয়েশন থাকে তবে সেটাতে আমাদের খুব একটা ক্ষতি হয়না।

এরপর আসে ইউরেনিয়াম মাইন অর্থাৎ যেখান থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হয়। এই ইউরেনিয়াম দিয়েই সাধারণত পারমানবিক বোমগুলা তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম মাইন থেকেও রিয়েকটরে ধরার মত ভালো পরিমাণে রেডিয়েশন আসে।

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানি ম্যারিকুরি রেডিও একটিভিটি নিয়ে কাজ করতেন। তার চেম্বার থেকেও ভালো পরিমান রেডিয়েশন বের হইতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে তার চেয়ার আর দরজার নব থেকে হাই লেভেলের রেডিয়েশন ডিটেক্ট করা হয়।
জাপানের হিরোশিমাতেও পারমাণবিক আক্রমণের প্রভাবে এখনো কিছুটা রেডিও এক্টিভিটি লক্ষ করা যায়।

রেডিয়েশন যে কি ভয়াবহ হতে পারে সেটা যারা এইচ বি ও'র চেরনোবিল ওয়েবসিরিজটা দেখেছেন তারা খুব ভালো বলতে পারবেন৷ ১৯৮০র দশকে সোভিয়েত রাশিয়ার চেরনোবিলে, একটা পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুর্ঘটনায় অনেক পরিমাণে রেডিয়েশন বের হতে থাকে। রেডিয়েশনের প্রভাবে আশেপাশের গাছপালা থেকে শুরু করে অনেক মানুষ ও পশুপাখি মারা যায়। প্রায় ৪০ বছর পর এখনো চেরনোবিলের বাতাসে ক্ষতিকরার মত রেডিয়েশন শনাক্ত করা যায়।

চেরনোবিলের ন্যায় জাপানের ফুকোশিমাতেও ২০১১ সালে সুনামির প্রভাবে পারমানবিক দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে পুরো শহরকে খালি করে দিতে হয়। ফুকোশিমার বাতাসেও বর্তমানে বিপদজনক রেডিয়েশন শনাক্ত করা যায়।

১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের সেই দুর্ঘটনার সময় একদল ফায়ার সার্ভিস কর্মী কোনো প্রকার প্রোটেকটিভ স্যুট ছাড়াই সেখানে আগুন নেভাতে গিয়েছিল। রেডিয়েশনের প্রভাবে কিছুদিনের মধ্যে তাদের সবাই মারা পরে। তাদের মৃতদেহকে শেষ পর্যন্ত স্টিলের বক্সে সিল করে সিমেন্টের প্লাস্টার দিয়ে দাফন করতে হয়েছিল। তাদের পরিহিত পোশাকাশাক এখনো সেই হসপিটালের আন্ডার গ্রাউন্ডে রাখা আছে। ৪০ বছর পর এখনো সেই পোশাক থেকে বিপদ সীমার অনেক উপরে রেডিয়েশন ডিটেক্ট করা যায়।
তবে এর থেকেও বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে থাকে নভোচারী বা মহাকাশচারীরা। প্রতিবছর মহাকাশে থাকাকালীন সূর্য থেকে প্রাপ্ত প্রচুর রেডিয়েশন গ্রহণ করতে হয় তাদের।
আর এই নভোচারীদের থেকেও বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে থাকে একজন ধূমপায়ী। সিগারেটের উপাদানগুলো (তামাক) থেকে প্রচুর রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। একজন এভারেজ স্মোকারের ফুসফুস প্রতি বছর ১৬০,০০০ মাইক্রোসিভার্ট রেডিয়েশন গ্রহণ করে যা একজন মহাকাশচারী থেকে পরিমাণে অনেক বেশি।





Comments