
The Marshmallow Test
- Jul 6, 2021
- 1 min read
ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক খুবই মজার একটা পরিক্ষা করেন। তিনি চার বছর বয়সের কয়েকজন শিশুকে একটি রুমের মধ্যে রাখেন। শিশুদের সবার সামনে একটি করে মার্শম্যালো, যেটা এক ধরনের মিষ্টি খাবার, রাখা হয়৷ সাথে একটি শর্ত জুরে দেয়া হয়, যে পনেরো মিনিট পর ওই শিক্ষক রুমে আসবেন এবং কেউ যদি এই পনেরো মিনিটে তাদের মার্শম্যালো না খেয়ে থাকে তাহলে সে আরেকটা মার্শম্যালো পাবে।
লোভনীয় প্রস্তাব, এখন চার বছরের বাচ্চারা সেটা কতটুকুই বা বুঝবে? যা হোক, ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এক্সপেরিমেন্ট টা ধারণ করা হল৷ দেখা গেলো, প্রতি তিন জনের একজন শিশু তাদের মার্শম্যালোটি রেখে দিল আরেকটা মার্শম্যালো পাওয়ার আশায়।
পরিক্ষার পরের ধাপে, সেই শিশুরা একাডেমিক পড়া শুরু করলো, শিক্ষক তাদের বেড়ে ওঠার দিকে নিবির পর্যবেক্ষণ করলেন। ওই শিশু গুলো বড় হলো, কলেজে ভর্তি হলো। শিক্ষক একটা বিষয় খেয়াল করলেন, যে শিশুরা তাদের মার্শম্যালো না খেয়ে জমিয়ে ছিল। তারা অন্যদের থেকে তিনটি ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেঃ
১. যারা মার্শম্যালোটি জমিয়ে ছিল, তারা কলেজের ভর্তি পরিক্ষায় অন্যান্যদের চেয়ে ভালো করেছে৷
২. তাদের মধ্যে কলেজ থেকে ড্রপ আউট বা বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কম ছিল।
৩. তারা শারীরিক ভাবেও অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ ছিল।
এই পরিক্ষার একটা ফল দেখা যায়, যারা শর্ট টাইম গ্র্যাটিফিকেশন বা সাময়িক মোহকে পাত্তা না দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেয় যারা, জীবনে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ওই শিশুদের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছিল।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এটাই অহরহ ঘটতে থাকে। সাময়িক মোহের পেছনে ছুটতে থাকি আমরা, ফলে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গুলো আর কাজে লাগানো হয়না। এই সাময়িক মোহগুলো আসবে যাবে, কিন্তু এই মোহের পেছনে পরে থাকলে ভবিষ্যতে এর ফল ভুগতে হবে আমাদের। তাই সাময়িক মোহগুলো ত্যাগ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত।
(আয়মান সাদিক ভাই এর নেভার স্টপ লার্নিং’ বই থেকে নেয়া)





Comments