
Keto Diet এবং Eating Disorder
- Jul 9, 2021
- 2 min read
আমাদের মধ্যে অনেকেরই কিটো ডায়েট নিয়ে অনেক ফেসিনেশন থাকে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ওজন নিয়ে একটু বেশিই চিন্তিত। আমি নিজেও এই ডায়েট টা এক সময় ট্রাই করে দেখবো বলে ভাবছিলাম। কিন্তু আজ খুবই মর্মাহত হলাম, যখন শুনলাম আমাদেরই এক আদরের ছোট ভাই এই কিটো ডায়েট করে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেল। কিটো ডায়েটের উপকার সম্পর্কে আমি অবগত; এটা রক্তের ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগার কমায়, ব্রেইন সেল ঠিক রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস এর রোগীর জন্য তো এই কিটো ডায়েট অনেক উপকারী। কিন্তু এই কিটো ডায়েটের ফলে একটা ছেলের মৃত্যু হলো কিভাবে?
কিটো ডায়েট কি?
কিটোজেনিক (Ketogenic) ডায়েট যাকে সংক্ষেপে বলা হয় কিটো ডায়েট। এটি এমন এক ধরণের খাবার খাওয়ার প্রক্রিয়া, যেখানে আপনি কার্বোহাইড্রেট আছে এমন খাবার (যেমন ভাত, রুটি, ডাল, কোক, ফল, চিনিযুক্ত খাবার ইত্যাদি) না খেয়ে অধিক পরিমানে ফ্যাটযুক্ত খাবার (যেমন শুধু মাছ, মাংস, পনির, বাদাম, ভেজিটেবল, মাখন ইত্যাদি) খাবেন। এর ফলে হবে কি? আমাদের শরীর সাধারণত কাজ করার সময় কার্বোহাইড্রেট ক্ষয় করে। এই কার্বোহাইড্রেটগুলো সহজে ক্ষয় হয় না। কিটো ডায়েট করলে আপনার শরীরে আর কোনো কার্বোহাইড্রেট অবশিষ্ট থাকবে না, তখন আপনার শরীর কাজ করার সময় কার্বোহাইড্রেট এর পরিবর্তে ফ্যাটগুলোকে ক্ষয় করবে, শরীরের এই অবস্থাকে বলে কিটোসিস (ketosis)। ফ্যাট কার্বোহাইড্রেট এর তুলনায় দ্রুত ক্ষয় হওয়ায় আপনার ওজন ধীরে ধীরে কমতে থাকবে, এটাই মুলত সহজ ভাষায় কিটো ডায়েট।
এখন প্রশ্ন হলো কিটো ডায়েটের জন্য কি কারো মৃত্যু হতে পারে? উত্তর হচ্ছে, 'হ্যা' আবার 'না'।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিটো ডায়েট করা নিরাপদ। এটা শরীরের জন্যও খুব ভালো। তবে যাদের ইটিং ডিসঅর্ডার (eating disorder) আছে তাদের জন্য কিটো ডায়েট মারাত্মক হতে পারে।
ইটিং ডিসঅর্ডার কি?
ইটিং ডিসঅর্ডার হলো এক ধরণের মানসিক অবস্থা যখন আপনার ব্রেইন খাবার গ্রহণে আপনাকে বাধা দিবে। অর্থাৎ আপনার ক্ষুধা লাগলেও আপনি খেতে পারবেন না এমন একটা অবস্থা। এমনটা হওয়ার পেছনে কারণ কি?
অনেক ধরণের কারণ থাকতে পারে যেমন, জেনেটিক কারণ, পরিবেশগত কারণ, মস্তিষ্কের সমস্যাজনিত কারণ ইত্যাদি। জেনেটিক কারণের মধ্যে, বাবা-মার কারো যদি ইটিং ডিসঅর্ডার থেকে থাকে তবে তা সন্তানের মাঝেও স্থানান্তর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবেশগত কারণ; এমন একটা পরিবেশে বেড়ে ওঠা যেখানে সবাই ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যাস্ত, শরীর নিয়ে মানুষের উপহাস বা বডিশেমিং এর শীকার হওয়ার মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা ইত্যাদি। মস্তিষ্কজনিত কারণ, অনেক সময় মস্তিষ্কের সমস্যার কারণেও এই ইটিং ডিসঅর্ডার হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো অনেক গবেষণা চলছে।
কাদের ইটিং ডিসঅর্ডার হতে পারে?
এটা সাধারণত উঠতি বয়সের তরুন তরুনীদের মাঝে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যাদের বয়স ১২ থেকে ১৯ এর মধ্যে। যারা নিজেদের আকার আকৃতি বা সৌন্দর্যকে সবকিছুর চেয়ে বড় করে দেখে। এই ইটিং ডিসঅর্ডার মোটেও অবহেলার মত অবস্থা নয়, যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। এই সময়টাতে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং বন্ধুদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
একজন ইটিং ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যাক্তি যদি কিটো ডায়েট করে তবে তা তার জন্য মারাত্নক হতে পারে, যা আমার সেই ছোট ভাই এর বেলায় হয়েছিল। আমরা তার জন্য মাগফেরাত কামনা করি এবং ভবিষ্যতে আর কারো সাথে যেনো এমনটা না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখি। ধন্যবাদ।





Comments