top of page
Search

Bitcoin Explained in Bangla: How Bitcoin Mining Works

  • Oct 13, 2021
  • 5 min read

এই লেখাটা যখন লিখছি তখন বিশ্বে বিট কয়েন সম্পর্কীত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি টেসলা ও স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বিট কয়েনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তার টুইটারের বায়ো তে #bitcoin  লিখে রেখেছিলেন। জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল (Paypal) ঘোষণা করে, এখন থেকে পেপালের মাধ্যমে বিট কয়েন বেচাকেনা করা যাবে। এই করোনা অতিমারিতে মানুষ এত অধিক পরিমাণে বিট কয়েন মাইনিং শুরু করে যে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার গ্রাফিকস কার্ডের (GPU) শর্ট পরে যায়, গ্রাফিকস কার্ডের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। বিট কয়েনের দাম বেড়ে এখন প্রায় ৬০ হাজার ডলার ছুঁয়েছে, প্রতি বিটকয়েনের দাম এখন বাংলাদেশী টাকায় (4,866,862 টাকা) প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। আজ আমরা এই বিট কয়েন নিয়ে কিছুটা জানার চেষ্টা করবো।


বিট কয়েন কি?

বিট কয়েন হলো একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা। ক্রিপ্টো মানে হলো গোপন আর কারেন্সি মানে হলো মুদ্রা। ক্রিপ্টোকারেন্সি বলতে এমন সব মুদ্রাকেই বোঝানো হয়, যে সকল মুদ্রার অস্তিত্ব রয়েছে শুধু অনলাইনে। বাস্তবে এগুলোর কোনো অস্তিত্ব হয়না। অর্থাৎ এই মুদ্রাগুলো শুধু ইন্টারনেটে ব্যাবহার উপযোগী। এটা দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনাকাটাও করা সম্ভব। বিট কয়েনের আরেকটি বৈশিষ্ট, এটা কোনো ব্যাংক বা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। তাই এটাকে বলা হয় স্বাধীন মুদ্রা।


তবে, বিট কয়েনই একমাত্র ক্রিপটোকারেন্সি না। বিটকয়েন ছাড়াও বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজারেরও অধিক ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। এগুলোর মধ্যে ডজকয়েন, ইথারিয়াম, টেদার, এক্সআরপি, কারডানা ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।

এখন অবশ্য অনেক দেশেই বিট কয়েন ব্যাবহার করা অবৈধ। কেন অবৈধ তা একটু পর বলছি।


এখানে সবুজ রঙের দেশগুলো আছে সেগুলোতে বিট কয়েন ব্যাবহার করা বৈধ। হলুদ রঙের দেশগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে বৈধ আবার কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ। লাল রঙের দেশগুলোতে বিট কয়েন ব্যাবহার করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আর সাদা রঙের দেশগুলোতে বিট কয়েন বৈধ নাকি অবৈধ তা এখনো নিশ্চিত না।


এখন প্রশ্ন হলো, আমরা তো আমাদের মুদ্রা হিসেবে টাকা ই ব্যাবহার করি, আমেরিকানরা ব্যাবহার করে মার্কিন ডলার, ইন্ডিয়ার আছে রুপি, তাহলে আবার বিট কয়েনের কি দরকার ছিল? 

এ বিষয়টা বুঝতে হলে আমাদের একটু ইতিহাস জানতে হবে।


আমরা যে টাকা ব্যবহার করি তা কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকার ইচ্ছা করলে সে টাকার মান কমিয়ে দিতে পারে। তবে আমরা আস্থা রাখি কোনো দেশের সরকারই শুধু শুধু এমনটা করবে না। কিন্তু মাঝে মাঝে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না। অনেক সময় সরকার বাধ্য হয় মুদ্রার মান কমিয়ে দিতে।


১ম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি হেরে যাওয়ার পর হঠাৎ করে তাদের ঋণ অনেক বেড়ে যায়। এ যুদ্ধে যে দেশগুলোর ক্ষতি হয়েছে তার সব খরচ জার্মানির বহন করতে হয়। জার্মানির কাছে তখন এত টাকা ছিল না। ফলে জার্মান সরকার বাধ্য হয়ে অনেক পরিমান টাকা ছাপাতে শুরু করে। অধিক পরিমাণ টাকা ছাপানোর কারণে তাদের ঋন শোধ হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু জার্মানিতে টাকার মান অনেক কমে যায়। ইকোনোমিকস এর ভাষায় এই টাকার মান কমে যাওয়া কে বলে মুদ্রাস্ফীতি। জার্মানিতে তখন মুদ্রাস্ফীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। অবস্থা এমন হয় যে, তখন মানুষ ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে যেতো আর সেই টাকা দিয়ে একটি রুটি কিনে বাসায় নিয়ে আসতো।

এই মুদ্রাস্ফিতি নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করা যাবে। আপাতত শুধু এটুকু মনে রাখলেই চলবে, দেশের সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা ছাপানো হলে টাকার মান কমে যায়।


ভেনিজুয়েলার ঘটনাও অনেকটা একই রকম। দক্ষিন আমেরিকার একটি দেশ হলো ভেনিজুয়েলা। দেশটি ছিল খনিজ তেল সমৃদ্ধ। তেল রপ্তানি করেই তাদের অর্থনৈতি চলতো। হঠাৎ করে যখন তেলের দাম কমে যায় তখন ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিতে ধস নামে। দেশটির সরকার তখন বাইরে থেকে ঋণ নেয়ার জন্য অধিক পরিমান টাকা ছাপানো শুরু করে। যার ফলে টাকার মান অনেক কমে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশের এক টাকা ভেনিজুয়েলার প্রায় ৫০ হাজার বলিভারের সমান। (ভেনিজুয়েলার মুদ্রার নাম বলিভার।)


বিট কয়েনের সৃষ্টি:

২০০৯ সালে সাতোসি নাকামোতো নামের এক ভদ্রলোক ইন্টারনেটে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন। এই আর্টিকেল এ তিনি নতুন একটি মুদ্রা তৈরির উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান, যে মুদ্রা কোনো দেশের সরকার বা ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। সরকার চাইলেই সে মুদ্রার মান কমাতে বা বাড়াতে পারবে না। এই মুদ্রা হবে স্বাধীন। নতুন এই মুদ্রাটির নামই হলো বিট কয়েন।


সবচেয়ে মজার ব্যাপার, এই সাতোশি নাকামোতো আসলে কে এটা এখনো কেউ বলতে পারেনা। কেউ বলে এটা আসলে একটা ছদ্মনাম আবার কেউ বলে সাতোশি নাকামোতো কোনো একজন ব্যাক্তির নাম না, এটা একটা গ্রুপ বা দলের নাম। এ বিষয়ে অনেক অনুসন্ধানও চালানো হয়েছে। তবে এই নামের কাউকে এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এটা এখনো একটা বড় রহস্য। এ সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন।


বিট কয়েন কেন এত দামী?

বিট কয়েন যখন ২০০৯ সালে প্রথম বাজারে আসে তখন এর দাম ছিল বাংলাদেশের টাকার চেয়েও কম। ২০১০ সালে ফ্লোরিডার এক লোক ১০ হাজার বিটকয়েন দিয়ে দুটো পিজ্জা অর্ডার করছিল। আজ প্রায় ১১ বছর পর ২০২১ সালে সেই ১০ হাজার বিট কয়েনের দাম ৪০০০ কোটি টাকারও বেশি। বিট কয়েনের দাম এত বাড়লো কিভাবে?


বিটকয়েন কোনো সরকার বা ব্যাংক দ্বারা তৈরি হয় না, এটা তৈরি হয় মাইনিং এর মাধ্যমে। যারা বিটকয়েন ট্রানজেকশন (আদান-প্রদান) এর হিসাব রাখে তাদেরকে বলা হয় মাইনার (Miner)। যখনই একজন মাইনার সঠিকভাবে বিটকয়েনের হিসাব রাখতে সক্ষম হয় তখন নতুন একটি বিটকয়েনের জন্ম হয়। এভাবে মাইনিং এর মাধ্যমে বিটকয়েন তৈরি হতে থাকে।


তবে এই প্রসেসটা সারা জীবন ধরে চলবে না। এর একটা লিমিটেশন আছে। যত বেশি মানুষ বিটকয়েনের জন্য মাইন করবে, বিট কয়েনের পরিমান তত কমতে থাকবে। এক সময় এই বিট কয়েন আর জন্ম নিবে না।

এক্সপার্ট দের মতে, আগামী ১২০ বছরে অর্থাৎ ২১৪০ সাল নাগাদ সব বিট কয়েন মাইন করা হয়ে যাবে। তখন পৃথিবীতে যতগুলা বিট কয়েন থাকবে তা দিয়েই কাজ চালাতে হবে।

অর্থাৎ বিট কয়েনের যোগান সীমাবদ্ধ, এটা এক সময় শেষ হয়ে যাবে। তাই এর চাহিদা বেশি, সুতরাং দামও বেশি।


বিট কয়েনের সুবিধা:

প্রথম সুবিধাটা একটু আগেই বলা হয়েছে, বিট কয়েনের উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের কোনো হাত নেই। এগুলা নিয়ন্ত্রন করে একদল মানুষ যাদেরকে বলা হয় বিট কয়েন মাইনার (Bitcoin Miner)। আপনি কত পরিমাণ বিট কয়েন ব্যায় করছেন তা এই মাইনার রা তাদের কম্পিউটারের মাধ্যমে হিসাব রাখে।

তারা শুধু দেখে আপনি কত খরচ করেছেন। আপনি কে, আপনার পরিচয় কী, বিট কয়েনগুলো কাকে পাঠাচ্ছেন এই বিষয়ে মাইনার রা জানে না। বিট কয়েনে এ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।


আরেকটি সুবিধা, বিট কয়েনের কোনো চ্যানেল বা মাধ্যম নেই। ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকে এক কোটি টাকা আমেরিকা পাঠাতে চান। এই পুরো টাকাটা অবশ্যই আপনাকে কোনো ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আর এই ব্যাংকগুলো আপনার থেকে বড় অংকের টাকা কেটে নিবে।

বিট কয়েন এ সকল ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে মুক্ত। আপনার কাছে এক কোটি টাকা পরিমাণ বিট কয়েন থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি সে বিট কয়েনগুলো বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পাঠাতে পারবেন, এতে আপনার এক টাকাও খরচ হবে না।


বিট কয়েনের অসুবিধা:

বিট কয়েনের এত সুবিধা থাকার সত্ত্বেও কেন আমাদের দেশে এখনো বিট কয়েন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ? এর মূল কারণ হলো, বিট কয়েন অতিরিক্ত নিরপদ।

বিট কয়েনের মাধ্যমে টাকা আদান প্রদান করলে এর রেকর্ড থাকে ঠিকই কিন্তু সেই টাকা টা কে বা কাকে পাঠানো হলো এর কোনো রেকর্ডই থাকে না। এ অবস্থায় বিট কয়েন ব্যাবহার কারীদের সনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব বয়ে দাঁড়ায়। এই সুযোগটা নেয় অপরাধী চক্র। তারা এই বিট কয়েনের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করে থাকে যার ফলে তাদের ধরা অনেক কঠিন হয়ে পরে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশে বিট কয়েন ব্যাবহার করা নিষিদ্ধ। 

 

যেভাবে আপনি বিট কয়েন পেতে পারেন:

সবশেষে এখন আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আপনি বিট কয়েত পেতে পারেন।


দুটো উপায় আছে:


প্রথম উপায়, বিট কয়েন মাইনিং। মাইনিং মানে হলো খনন করা। তবে এই খনন টা অবশ্যই শাভল দিয়ে করলে হবে না, এইটা করতে হয় কম্পিউটার দিয়ে। বিষয়টা অনেক সহজ শোনা গেলেও বিট কয়েন মাইনিং অনেক জটিল একটি প্রকৃয়া। এর জন্য অনেক শক্তিশালী কম্পিউটারের পাশাপাশি অনেক লোকবলও প্রয়োজন।


আর দ্বিতীয় উপায় হলো, বিট কয়েন কিনে নেয়া। আপনার যদি বিট কয়েন কেনার মত পর্যাপ্ত টাকা থাকে তাহলে আপনি সেই টাকা দিয়ে, যার কাছে বিট কয়েন আছে তার থেকে কিনে নিতে পারেন। বিট কয়েন পাওয়ার এটাই সব থেকে সহজ উপায়।





 
 
 

Comments


14372307_1760888004185917_2115663295210837766_o.jpg

Hi there!

এই লিখাটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগ করতে আমার সাথে ফেসবুকে যুক্ত হতে পারেন।

আমার ফেসবুক পেইজঃ Shazid Al Mahmud 

 

 

Let the posts
come to you.

Thanks for submitting!

  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • Pinterest

All rights reserved 

bottom of page